নিজস্ব প্রতিবেদক:
তিন দিনের সাংগঠনিক সফর শেষে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার পথে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ডাকাতদলের কবলে পড়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সংঘবদ্ধ মুখোশধারী ডাকাতদল কৌশলে গাড়ি থামিয়ে চালকসহ সাংবাদিক নেতাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুটে নিয়েছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের মিরসরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
যেভাবে ঘটে ডাকাতির ঘটনা
ভুক্তভোগী বিএমএসএফ-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, কক্সবাজার, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে তিন দিনের সাংগঠনিক সফর শেষে গত ৩১ জুলাই দিবাগত রাতে তারা চারজন (চালকসহ) প্রাইভেটকারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
রাত আনুমানিক ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই থানাধীন কমর আলী রাস্তার পশ্চিম পাশে (ঢাকামুখী লেনে) পৌঁছালে ডাকাতদল গাড়ি লক্ষ্য করে একটি লোহার রড ছুঁড়ে মারে। বিকট শব্দ হলে চালক ভাবেন গাড়ির কোনো যন্ত্রাংশ খুলে পড়েছে। তিনি গাড়ি থামিয়ে নিচে নামার পরপরই ৭-৮ জনের একদল সশস্ত্র মুখোশধারী ডাকাত তাদের ঘিরে ফেলে এবং অস্ত্রের মুখে সকলকে জিম্মি করে।
মালামাল লুট ও পুলিশি পদক্ষেপ
সংঘবদ্ধ ডাকাতদল সাংবাদিক নেতাদের কাছে থাকা নগদ প্রায় ৯০ হাজার টাকা এবং তিনটি মূল্যবান মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীরা পার্শ্ববর্তী নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জানালে এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করেন। বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় রাতেই বিএমএসএফ চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বাদী হয়ে মিরসরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ ও ওসির বক্তব্য
সাংবাদিক নেতারা ডাকাতির শিকার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনতিবিলম্বে জড়িত ডাকাতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংবাদকর্মী সমাজ।
অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন—
“লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে এবং খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”